জি এম মামুন নিজস্ব প্রতিনিধি : শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, একজন শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর, আর একজন শিক্ষক বাবার সমতুল্য হয়ে পিতার আসনে বসে যখন ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে এবং রক্ষক যখন ভক্ষক সেজে বসে। ঠিক তখনই একজন শিক্ষকের চরিত্র পশুর চেয়েও কঠিন হয়ে পড়ে ঠিক তেমনি ঘটনা ঘটেছে। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ৪৪ নং ভদ্রখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মা গত রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান বাবলুকে জুতো পেটা করেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর চাচা জানান, গত ১৬ জুন সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে আমার ভাইয়ের বাড়িতে প্রাইভেট পড়াতে আসে ভদ্রখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এসময় রুমের পাশে আর কেউ না থাকার সুযোগে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী আমার ভাইয়ের মেয়েকে যৌন হয়রানি করে শিক্ষক বাবলু। শিক্ষক চলে যাওয়ার পরে কাঁদতে থাকে আমার ভাইয়ের মেয়ে। এসময় তার মা কি হয়েছে জানতে চাইলে সে বলে বাবলু স্যার তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়েছে। এসময় তার মা-বাবা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করে।
এছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহদীর অনুরোধে বিষয়টি নিয়ে কোন অভিযোগ করেননি। উপজেলা চেয়ারম্যান প্রতিশ্রুতি দেন ভদ্রখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান বাবলুকে বদলী করানো হবে। এজন্য বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয়নি বলে জানান তিনি।
কালিগঞ্জে যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে জুতো পেটা
এছাড়া তিনি আরো জানান, গত রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান বাবলুকে স্কুলে দেখে ওই ছাত্রীর মা আমার ভাবী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এসময় প্রধান শিক্ষককে আমার ভাবী জুতো পেটা করেন। এমন ঘৃণ্য কাজ করার পরেও স্কুলে প্রধান শিক্ষককে দেখে স্থানীয়রাও চড়াও হন তার উপর। পরিস্থিতি বেসামাল দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম পুটু স্কুল থেকে তাকে বের করে বাড়িতে পৌঁছে দেন বলে জানান তিনি ।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ভদ্রখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান বাবলু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গতকাল রবিবার পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় কয়েকজন আমার উপর হামলা চালায়। আমি বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদীকে অভিহিত করেছি। উপজেলা চেয়ারম্যান বর্তমান ঢাকাতে আছেন বাড়িতে এসে আমার উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. শামসুন্নাহার বলেন, ঘটনাটি আমি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তবে গত ২ মাস আগে উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহদী ভদ্রখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান বাবলুকে ওই স্কুল থেকে বদলী করার জন্য সুপারিশ করে ছিলেন। কিন্তু করোনা কালিন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া গতকাল রবিবার শিক্ষক বাবলু নিজেই বদলীর জন্য আবেদন করেছেন। অতিদ্রুত তাকে ওই স্কুল থেকে বদলি করা হবে বলে তিনি জানান।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহদীর কাছে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি
Leave a Reply